পর্দা নামল ১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার

বিক্রি ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার পণ্য ক্রয়াদেশ মিলেছে প্রায় ১৬ কোটির

সপ্তাহব্যাপী ‘১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২৫’-এর পর্দা নেমেছে। এবারের আয়োজনে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ক্রয়াদেশ এসেছে আরো ১৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার।

সপ্তাহব্যাপী ‘১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা ২০২৫’-এর পর্দা নেমেছে। এবারের আয়োজনে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ক্রয়াদেশ এসেছে আরো ১৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল সন্ধ্যায় এ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মুশফিকুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘গত বছর এসএমই পণ্য মেলায় ১৩ কোটি ১ লাখ টাকার বেচাকেনা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ক্রয়াদেশ এসেছিল আরো ২০ কোটি ৬ লাখ টাকার। ১২তম মেলায় রোববার দুপুর পর্যন্ত ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার বিক্রি হয়েছে। আর ১৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার ক্রয়াদেশ পাওয়া গেছে। এছাড়া গত তিন বছর গড়ে বিক্রি ছিল ১১ কোটি টাকা।’

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘ক্রয়াদেশ পেয়েছি আর কিছু করার নেই, এটি ভাবলে চলবে না। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক সংযোগ তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। এর মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে একটি সংযোগ ও বিশ্বাসের জায়গা তৈরি হবে, যা ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এসএমই খাত না এগোলে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। তাদেরকে (উদ্যোক্তা) সহযোগিতা করতে হবে। এসএমই খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা অর্থায়ন। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এসএমই খাত টিকে থাকতে না পারলে বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। কারণ তারাই বাজারের প্রধান সরবরাহকারী।’

শিল্প সচিব আরো বলেন, ‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঠিক ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। এটি করলে তাদেরকে সহযোগিতায় পরিকল্পনা নেয়া সহজ হবে।’ এসএমই উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘এ ধরনের মেলা উদ্যোক্তাদের জন্য ক্রেতার সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ করে দেয়। এমন আয়োজন উদ্যোক্তা ও দেশের জন্য লাভজনক। তবে মেলার ব্যাপ্তি এক সপ্তাহ খুবই কম সময়। আগামী বছর থেকে অন্তত ১৫ দিন করার দাবি জানাচ্ছি।’

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মুসফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সায়েমা শাহীন সুলতানা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও অতিরিক্ত সচিব নুজহাত ইয়াসমিন এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের ব্যাংকিং কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রুমী এ আলী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি ও ১২তম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক সামিম আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তুলে ধরেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিম হাসান সাত্তার।

আরও